ফলিক অ্যাসিডের অভাব

নতুনদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:২২ এএম

ফলিক অ্যাসিড বা ফলেট বা ভিটামিন বি-৯ শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই ভিটামিন পানিতে মিশে যায়, ফলে শরীর এই ভিটামিনটি ধরে রাখতে পারে না। তাই প্রতিদিন খাবারের মাধ্যমে শরীরের এই ভিটামিন প্রয়োজন হয়। ফলিক অ্যাসিড লাল রক্ত কোষ (আরবিসি) উৎপাদনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যার মধ্যে হিমোগ্লোবিন রয়েছে এবং এটি ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিইক অ্যাসিড) তৈরি ও মেরামত করে। ফলিক অ্যাসিডের অভাবের ফলে মেগালোব্ল্যাস্টিক অ্যানিমিয়া হয়, যা গর্ভাবস্থায় হলে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এটির প্রধান লক্ষণ ও উপসর্গগুলো কী কী?
ফলিক অ্যাসিডের অভাবের প্রধান লক্ষণ এবং উপসর্গগুলো হলো কম হিমোগ্লোবিনের জন্য দুর্বলতা এবং ক্লান্তিভাব। এ ছাড়া শ্বাসের ঘাটতি, মুখের বা জিভের ঘা, মাথা যন্ত্রণা, বিরক্তিভাব, ক্ষুধামান্দ্য এবং মনোযোগে অসুবিধা। গর্ভাবস্থায় ফলেটের অভাবের ফলে শিশুর মধ্যে জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। কারণ এটি শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশের জন্য খুবই জরুরি।

এটির প্রধান কারণ কী কী?
খারাপ বা কম পরিমাণে খাবার গ্রহণ করার ফলে ফলেটের অভাব হয়। ম্যালঅ্যাবসরপসন রোগ যেমন- কোয়েলিয়াক রোগ খাবার থেকে রক্তে ফলেট শোষণকে আটকায়, যার ফলে ফলেটের অভাব হয়। দীর্ঘস্থায়ী সময়ের জন্য কিডনি ব্যর্থতার জন্য ডায়ালিসিস এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির ফলে লিভারের ঘাটতি হতে পারে। মেথোট্রেকসেট, সালফাস্যালাজাইনের মতো ওষুধ এবং খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণ করার ওষুধের ফলেও ফলিক অ্যাসিডের অভাব হতে পারে।

এটি কীভাবে নির্ণয় ও চিকিৎসা করা হয়?
এ অবস্থার নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক উপসর্গগুলোর সঠিক ইতিহাস নেবেন এবং কিছু ল্যাবরেটরি পরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। যেসব রোগীর মধ্যে পুষ্টির অভাব রয়েছে তাদের মধ্যে অ্যানিমিয়া আছে কি না, তা জানার জন্য কমপ্লিট ব্লাড কাউন্টের পরামর্শ দেওয়া হয়।

ফলিক অ্যাসিডের অভাবের কারণে মেগালোব্ল্যাস্টিক অ্যানিমিয়া হয়, যার মধ্যে আরবিসিগুলো সাধারণের থেকে বড় হয় এবং অপরিণত হয়। রক্তে ফলিক অ্যাসিডের কম মাত্রা ফলিক অ্যাসিডের অভাবকে ইঙ্গিত করে। যে ওষুধগুলো রোগী গ্রহণ করে চিকিৎসক তারও একটি ইতিহাস নিতে পারেন এটা জানার জন্য যে, অন্য কোনো ওষুধের কারণে ফলিক অ্যাসিডের ম্যালঅ্যাবসরপসন হচ্ছে কি না।

চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ফলিক অ্যাসিডের পরিপূরক খাওয়া। ওষুধের দোকানে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট পাওয়া যায়। ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, শেলফিশ, বিটরুট, ডাল, মটরশুঁটি, সবুজ পাতা সমেত শাকসবজি সমগ্র স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।