ক্যানসারে মুষড়ে পড়া নয়

নতুনদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:২১ এএম

ছবি: ১.মাজেদা রহমান ঝর্ণা (কেমোথেরাপি নেওয়ার পর)। ২. স্বামী সন্তানের সঙ্গে ঝর্ণা

উপরের ছবির মেয়েটির সাজসজ্জা দেখে অনেকেই হয়তো ভাবছেন ফ্যাশনের নতুন কোনো ট্রেন্ড। মাথায় চুল নেই কিন্তু টিকলি আছে। না, সাজসজ্জার নতুন কোনো ট্রেন্ড নয়। ক্যানসারের চিকিৎসার অংশ হিসেব কেমোথেরাপি দেওয়ার পর মাথার চুল পড়ে যাচ্ছিল। তাই স্বেচ্ছায় ন্যাড়া হয় মেয়েটি। 

সাধারণত ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর শুনে যে কেউ মনোবল হারিয়ে ফেলেন। কান্নাকাটির পাশাপাশি মরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। কিন্তু এই মেয়েটির বেলায় দেখলাম ব্যতিক্রম। অসীম সাহসিকতার সঙ্গে সে এই দূরারোগ্য ব্যাধি মোকাবিলা করছে। 

গত ২২ মার্চ ছিল আমাদের পরিবারের জন্য একটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন। সেদিন আমরা জানতে পারি আমাদের সবচেয়ে আদরের ছোট বোন মাজেদা রহমান ঝর্ণা ক্যানসারে আক্রান্ত। ক্যানসার আর্লি স্টেজে থাকলেও আমরা ভাইবোন সবাই মুষড়ে পড়ি। শুরু হয় চিকিৎসকের কাছে ছোটাছুটি। সেই সঙ্গে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, যেন সে দ্রুত সুস্থ হয়। চিকিৎসকরা জানালেন ৬টি কেমোথেরাপির পাশাপাশি ইমিউনোথেরাপি দিতে হবে। ছটি কেমো ও ইমিউনোথেরাপির পর অপারেশন। এরপর আবার ১০টি ইমিউনোথেরাপি দিতে হবে। তার আগে নানা পরীক্ষা–আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমআরই, সিটিস্ক্যান, বোনস্ক্যান রেডিওথেরাপি আরও কত কী। সব মিলিয়ে খরচ ৬০ লক্ষাধিক টাকা। 

এত খরচ! আমরা আবারও মুষড়ে পড়লাম। কিন্তু একজন কিছুতেই মুষড়ে পড়লো না। সে ঝর্ণার স্বামী মাসুদ ইমরান মান্নু। লড়াকু এই ছেলেটি জীবনপণ করে ফেললো, যেভাবেই হোক স্ত্রীকে বাঁচাতে হবে। ঝাঁপিয়ে পড়লো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের এই শিক্ষক স্ত্রীর চিকিৎসায়। নিজের ও ১৩ বছরের মেয়েটির ঝর্ণাকে যে বড্ড প্রয়োজন। এরপর শুরু হলো কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপির সেই কঠিন অধ্যায়। ২১ দিন পর পর দিতে হয় এসব থেরাপি। প্রতিটি থেরাপির পর শরীর ভীষণ খারাপ হয়ে যায়। মাথা ঘোরা, কনস্টিপিশনসহ নানা সমস্যা। কিন্তু আমার বোনকে এজন্য এক মুহূর্তের জন্য মন খারাপ করতে দেখিনি। দেখিনি হতাশ হতে। 

চিকিৎসকরা অবশ্য শুরুতেই বলেছেন, ভয়ের কিছু নেই। যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হলে ক্যানসার ভালো হয়ে যাবে। হয়তো চিকিৎসকদের এই অভয়বাণী ঝর্ণাকে উজ্জীবিত করে রেখেছে। সংসারের প্রায় সব কাজ সে একা হাতেই করছে। মেয়ের লেখাপড়া ও তাকে স্কুলে আনা নেওয়া করার কাজটিও সে করছে সুচারুভাবে। পাশাপাশি চলছে সামাজিকতাও। সাজগোজ করে নিজের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্টও করছে। তাকে এমনটা করতে দেখে আমরাও আর মন খারাপ করি না এবং মনে দৃঢ় আশা পোষণ করি যে চিকিৎসা শেষে ঝর্ণা অবশ্যই সুস্থ হয়ে উঠবে।