ত্বকী হত্যাকাণ্ড: কাজলের স্বীকারোক্তি

নতুনদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:৫৮ এএম

কাজল হাওলাদার

মেধাবী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কাজল হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে অন্য আসামি শিপন ও মামুনকে আবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলীর আদালতে প্রথমে তোলা হয় শিপন ও মামুনকে। এ সময় র‌্যাব তাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে একই আদালতে হাজির করা হয় কাজল হাওলাদারকে। আদালত তার দেওয়া জবানবন্দি রেকর্ডভুক্ত করেন। কাজল আজমেরী ওসমানের বন্ধু।

প্রয়াত সংসদ সদস্য একেএম নাসিম ওসমানের ছেলে ও সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানের বিরুদ্ধে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুর রশীদ জানান, আসামি কাজল হাওলাদার আমলি আদালতের এই বিচারকের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ত্বকীকে হত্যার সময়ের নানা তথ্য আদালতকে জানিয়েছেন। আদালত তার দেওয়া জবানবন্দি রেকর্ডভুক্ত করেছেন। মামলার তদন্তকারী সংস্থা র‌্যাব অন্য দুই আসামিকে আবার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে কাজল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। পরদিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ড দেন আদালত। রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে তোলা হলে কাজল স্বপ্রণোদিত হয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে রাজি হন।

এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর ত্বকী হত্যা মামলায় ঢাকার মিরপুর থেকে আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক জামশেদ শেখকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। একই মামলায় ৮ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকা থেকে মো. শাফায়েত হোসেন শিপনকে এবং কালিবাজার এলাকা থেকে মামুন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত প্রত্যেক আসামির ছয় দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

২০১৩ সালের ৬ মার্চ বিকেলে বঙ্গবন্ধু সড়ক থেকে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যায় মেলে ত্বকীর লাশ। ত্বকী হত্যার সঙ্গে ওসমান পরিবারের সদস্যরা জড়িত আছেন বলে শুরু থেকে অভিযোগ করে আসছে তার পরিবার। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও এই হত্যকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে পারেনি র‌্যাব।